প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬ ০২:২১ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৫ ১১:৩১ এ এম
নেত্রকোনায় এইচএসসি ফলাফলে চরম বিপর্যয়: চার কলেজে শতভাগ অকৃতকার্য
Md. Ibrahim K Mridda| কালবিন্দু| মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় নেত্রকোনা জেলার ফলাফল ছিল শিক্ষাব্যবস্থার জন্য এক বড় ধাক্কা। জেলার চারটি কলেজে শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন এবং একটি কলেজ থেকে কোনো পরীক্ষার্থী অংশ নেয়নি। সামগ্রিকভাবে জেলার পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ, যা ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের সর্বনিম্ন।
স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা ও শিক্ষার মানোন্নয়নের বিপরীতে নিম্নোক্ত কলেজগুলোতে একজনও শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি—
| কলেজের নাম | অবস্থান | পরীক্ষার্থীর সংখ্যা | পাসের সংখ্যা | মন্তব্য |
|---|
| ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন কলেজ | নেত্রকোনা সদর | ২ | ০ | মানবিক বিভাগ |
| জোবায়দা জহুর উদ্দিন সরকার মহিলা কলেজ | পূর্বধলা | ৩ | ০ | মানবিক বিভাগ |
| জনতা আদর্শ মহাবিদ্যালয় | কেন্দুয়া | ৯ | ০ | মানবিক বিভাগ |
| গোপালপুর মডেল কলেজ | কেন্দুয়া | ১২ | ০ | মানবিক বিভাগ |
এছাড়া গড়াডোবা আব্দুল হামিদ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ (কেন্দুয়া) থেকে একজন পরীক্ষার্থী নিবন্ধিত থাকলেও তিনি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেননি।
ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের গড় পাসের হার ৫১ দশমিক ৫৪ শতাংশ হলেও নেত্রকোনা জেলার গড় হার ৪৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ, যা জেলার শিক্ষা ব্যবস্থার দুরবস্থাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। বোর্ডের অন্যান্য জেলাগুলোর তুলনায় নেত্রকোনা এখন শিক্ষাগতভাবে সবচেয়ে নিচে অবস্থান করছে।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় প্রশাসনিক সূত্রগুলো বলছে, এই দুরবস্থার পেছনে কয়েকটি নির্দিষ্ট কারণ স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা যায়—
১. শিক্ষকদের অভাব ও মানের ঘাটতি: অনেক কলেজে যোগ্য শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরা পাঠ্যসূচি যথাযথভাবে বুঝতে পারছে না।
২. শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির দুর্বলতা: পরীক্ষার আগে পর্যাপ্ত ক্লাস ও রিভিশন না হওয়ায় প্রস্তুতি ছিল অপ্রতুল।
৩. একাডেমিক সহায়তার অভাব: নিম্নমধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সহায়তা বা কোচিং সুবিধা সীমিত।
৪. অবকাঠামোগত দুর্বলতা: অনেক প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত ল্যাব, লাইব্রেরি বা শ্রেণিকক্ষের অভাব রয়েছে।
শিক্ষার মান উন্নয়নে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে আগামী বছরগুলিতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। এজন্য নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন শিক্ষা বিশ্লেষকরা—
-
দুর্বল কলেজগুলোতে বিশেষ একাডেমিক সহায়তা: ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানগুলোতে অতিরিক্ত ক্লাস, রেমেডিয়াল কোর্স ও শিক্ষকদের বদলি বা সহায়তা পাঠানো উচিত।
-
শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ বৃদ্ধি: নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ ও পারফরম্যান্স মূল্যায়ন কার্যক্রম চালু করতে হবে।
-
শিক্ষার্থীদের জন্য মেন্টরিং প্রোগ্রাম: কলেজ পর্যায়ে কোচিং ও মেন্টরিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি বাড়ানো জরুরি।
-
ফলাফলভিত্তিক তদারকি: প্রতিটি কলেজের ফলাফল বিশ্লেষণ করে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
নেত্রকোনা জেলার এবারের এইচএসসি ফলাফল শুধু ব্যর্থতার পরিসংখ্যান নয়, বরং জেলার শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বল কাঠামোর প্রতিচ্ছবি। এখনই যদি সরকারি ও প্রশাসনিক পর্যায়ে দৃঢ় পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষাগত ভিত্তি আরও নড়বড়ে হয়ে পড়বে।
সূত্র:
স্বাস্থ্য অধিদফতর, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড, নেত্রকোনা জেলা প্রশাসন
Copyright © 2026 All Rights Reserved | Siyam Creations |